Header Ads

Header ADS

রূপপুরে দুর্নীতি: ৮৯ হাজার টাকায়ও কেনা হয়েছিল একটি বালিশ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে বালিশ কেনা নিয়ে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ওই প্রকল্পে সর্বোচ্চ প্রায় ৯০ হাজার টাকা দিয়েও বালিশ কেনা হয়েছিল। আর সর্বনিম্ন দামে বালিশ কেনা হয়েছিল ৬ হাজার ৯৫৭ টাকায়। মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ওই সূত্র বলছে, এই প্রকল্পে মোট ৪ হাজার ৭০২টি বালিশ কেনা হয়েছিল। যার মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৯ হাজার ৯০০ টাকা দরে ৬০টি বালিশ কেনা হয়েছিল। ২৯ হাজার ৮৪৭ টাকা দরে বালিশ কেনা হয়েছিল ৭২টি। ২০ হাজার টাকা করে বালিশ কেনা হয়েছিল ৬৬০টি। আর প্রতিটি ১০ হাজার টাকার কিছু বেশি দামে বালিশ কেনা হয় ১২০টি।

রূপপুর প্রকল্পের নিরীক্ষা করে সিএজির দপ্তর বলছে, রূপপুর প্রকল্পে ২০টি ভবন তৈরিতে নানা অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ২৯৫ কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। এর মধ্যে এই প্রকল্পে ৪ হাজার ৭০২টি বালিশের প্রকৃত মূল ছিল ১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। অথচ কেনা হয়েছিল প্রায় ৫ কোটি ৪১ লাখ টাকায়। অতিরিক্ত দামে বালিশ কিনতে গিয়ে সরকারের ৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে।

এই টাকা লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে অতিরিক্ত যে টাকা নেওয়া হয়েছে, সেগুলো আদায় করা আবশ্যক বলে অভিমত দেওয়া হয়েছে সিএজির প্রতিবেদনে।

২০১৯ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আবাসন ভবন ‘গ্রিন সিটি’ নির্মাণকাজে বিভিন্ন সামগ্রী কেনাকাটায় অনিয়ম-দুর্নীতর বিষয়টি আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পেশ করা সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ৩৮টি প্রতিবেদনের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সেই আলোচিত ‘বালিশ-কাণ্ডের’ দুর্নীতির প্রতিবেদন রয়েছে।

২০১৯ সালেই আওয়ামী লীগ সরকার আমলের এই প্রকল্পে কেনাকাটায় অনিয়মের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তখন খবরে বলা হয়, ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা দিয়ে প্রতিটি বালিশ কেনা হয়। এই খবর তখন ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে। ‘বালিশ-কাণ্ড’ নামে মুখে মুখে আলোচিত হয়।

তবে বাস্তবে বালিশ কেনা হয়েছিল আরও বেশি দামে, যা সিএজির কার্যালয়ের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রতিবেদনে প্রতিটি বালিশের এ রকম অবিশ্বাস্য দাম শুনে সিএজিকে বলেছেন, এই দামি বালিশের একটি জাদুঘরে রাখা উচিত।’

সিএজির প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বালিশ, কাভার, মালামাল ওঠানামা এবং বিভিন্ন ফ্লোরে পৌঁছানোসহ প্রতিটি বালিশের জন্য ব্যয় প্রস্তাব করেছিলেন ৯ হাজার ৩০৭ টাকা। যার প্রকৃত বাজারমূল্য ও খরচ ছিল ৩ হাজার ১৫৪ টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি বালিশের জন্য ৬ হাজার ১৫৩ টাকা বেশি ধরা হয়েছিল। পরে এই বালিশ কেনায় আরও বড় অনিয়মের ঘটনা ঘটে।

ঠিকাদারকে সুবিধা দিতেই যোগসাজশ করে অতিরিক্ত দামে বালিশ কেনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, নিরীক্ষার সময় এসব বিষয়ে জবাব চাওয়া হলে কোনো উত্তর দেননি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। সাজিন কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ও মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামের দুটি প্রতিষ্ঠান বালিশসহ বিভিন্ন আসবাব অতিরিক্ত দামে কেনাকাটা করে প্রায় চার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, রূপপুর প্রকল্পে যে সাগর চুরির কাণ্ড হয়েছে, সেটা আগেও বলা হয়েছিল। এখন যেহেতু সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাই ঠিকাদার ও কর্মকর্তাসহ যাঁদের যোগসাজশে দুর্নীতি হয়েছে, তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। কেবল জেলজরিমানা করলেই হবে না, তাঁদের কাছ থেকে ওই অর্থ উদ্ধারের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।



No comments

Powered by Blogger.