Header Ads

Header ADS

ভুয়া তথ্যের বিস্তার রোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান নোয়াব সভাপতির

দেশে ভুয়া তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে উল্লেখ করে নোয়াব সভাপতি ও মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেছেন, এ পরিস্থিতি এখন প্রায় মহামারির আকার ধারণ করেছে এবং তা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সম্মিলিত উদ্যোগ ও সামাজিক আন্দোলন প্রয়োজন।

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সম্পাদক পরিষদ এবং নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) আয়োজিত আলোচনা সভায় দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন মতিউর রহমান চৌধুরী। আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

প্রতিবছর ৩ মে পালিত হয় ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে বা বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গঠন: মানবাধিকার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রসার।’

মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—বিশেষ করে ফেসবুক ও ইউটিউবে তথ্য আগে দেওয়ার প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় যাচাইহীন খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এতে মূলধারার গণমাধ্যম চাপে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিক লাইভ বা পোস্ট দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু সেসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে না। ফলে পরে তা ভুয়া প্রমাণিত হলেও এ নিয়ে যা বিভ্রান্তি ছড়ানোর তা ছড়িয়ে পড়ে।

নোয়াব সভাপতি বলেন, ‘এখন প্রায় প্রত্যেক ঘরেই একজন করে “সাংবাদিক” তৈরি হয়েছে। যে যা দেখছে, সেটাই লিখছে বা প্রচার করছে। এই অবস্থায় সঠিক তথ্য পাওয়াই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’

ভুয়া তথ্যের কারণে সমাজে বিভক্তি তৈরি হচ্ছে, এমনকি ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীগত সংঘাতের ঘটনাও ঘটছে উল্লেখ করে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নোয়াব সভাপতি বলেন, এ ক্ষেত্রে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতা বাড়ানো যেতে পারে। এতে সাধারণ মানুষ তথ্য যাচাইয়ে আরও সতর্ক হবে।

‘ভুয়া তথ্য’ ও ‘অপতথ্য’ রোধে শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, এটি মোকাবিলায় প্রয়োজন একটি সামাজিক আন্দোলন। সে জন্য গণমাধ্যমের মালিক, সম্পাদক, সাংবাদিক ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম–সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তিনি।

সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন সাবেক গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী, সংবাদের নির্বাহী সম্পাদক শাহরিয়ার করিম। সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ আলোচনা সভার সঞ্চালনা করেন।



No comments

Powered by Blogger.