Header Ads

Header ADS

কালশীতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭০ পরিবার গৃহস্থালি সরঞ্জাম পেল

রাজধানীতে পল্লবীর কালশী বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭০টি পরিবারকে গৃহস্থালি সরঞ্জাম ও নগদ অর্থসহায়তা দিয়েছে ব্র্যাক। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়া হয়। এ মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করেছে প্রথম আলো বন্ধুসভা।

ব্র্যাকের প্রতিনিধিরা আজ সকাল ১০টায় কালশী বস্তির ১৭০টি পরিবারের কাছে সহায়তা তুলে দেন। গৃহস্থালি সরঞ্জামের মধ্যে প্রতিটি পরিবারের জন্য ছিল স্টিলের প্লেট ৪টি, স্টিলের খুন্তি ১টি, স্টিলের চামচ ২টি, পানির গ্যালন ১০ লিটার, কড়াই ১টি, স্টিলের পানির গ্লাস ৩টি, প্লাস্টিকের মগ ১টি, বালতি ১টি, পাতিল ১টি, স্টিলের পাত্র ১টি, স্টিলের ছোট বাটি ২টি ও প্লাস্টিকের জগ ১টি। পাশাপাশি এক হাজার টাকা করে নগদ অর্থসহায়তা দেওয়া হয় প্রতিটি পরিবারকে।

কালশী বস্তিতে গত ২৫ মে সন্ধ্যায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে গৃহহীন হয়ে পড়েন হাজারো মানুষ। এরপর থেকেই কেউ তাঁবুতে বাস করছেন, কেউ অন্যত্র ঝুপড়ি ভাড়া নিয়ে কোনোরকমে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিয়েছেন। নতুন করে আবার সবকিছু গুছিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন এসব মানুষ। তাই এ মানবিক উদ্যোগ নেয় ব্র্যাক।

এ বিষয়ে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের সহযোগী পরিচালক বেলায়েত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, যেকোনো দুর্যোগে সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায় ব্র্যাক। এরই অংশ হিসেবে কালশীতে অগ্নিকাণ্ডের প্রথম দিন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের খাবার সরবরাহ, বেশ কয়েকটি পরিবারকে বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়াসহ ঈদের আগের দিন শিশুদের নতুন জামাকাপড় দেওয়া হয়েছে; আর আজ গৃহস্থালি সরঞ্জাম ও নগদ অর্থসহায়তা করা হলো। তিনি বলেন, আশা করি সামনের দিনগুলোতে এসব মানুষ অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। মানবিক এই কার্যক্রমে পাশে থাকায় এ সময় তিনি প্রথম আলো বন্ধুসভার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

কয়েক দিন ধরে ব্র্যাকের সংশ্লিষ্ট এলাকার কর্মীরা এবং স্থানীয় বন্ধুসভার বন্ধুরা সমন্বিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের তালিকা তৈরি করেন এবং সবার হাতে টোকেন পৌঁছে দেন। এরপর সহায়তা প্যাকেজ বিতরণে ভেন্যু প্রস্তুতের কাজ হয়। আজকের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে উপস্থিত বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বুশরা বলেন, ‘এই উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জীবনে স্বস্তি ও সাহস ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখবে। আজ প্রতিটি পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় গৃহস্থালিসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। এ সহায়তা এসব মানুষের প্রতি আমাদের সহমর্মিতা ও মানবিক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ।’

এ সময় ব্র্যাককে ধন্যবাদ জানিয়ে মাহমুদা বুশরা বলেন, আশা করি, ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক উদ্যোগে আমাদের যৌথভাবে আরও কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের কর্মসূচি প্রধান (ডিআরএমপি) খন্দকার গোলাম তৌহিদ, সিনিয়র কর্মসূচি ব্যবস্থাপক (ডিআরএমপি) ফরহাদ হোসেন, সিনিয়র কর্মসূচি ব্যবস্থাপক (এমএফ) নূর ই আলম, বিভাগীয় ব্যবস্থাপক সানজি মনি, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম, ডিস্ট্রিক্ট কোঅর্ডিনেটর বজলুর রসিদ, প্রথম আলো বন্ধুসভার ডিজিটাল কনটেন্ট সহযোগী তাহসিন আহমেদসহ ব্র্যাকের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বন্ধুসভার সদস্যরা।

উল্লেখ্য, অগ্নিকাণ্ডের পরদিন ২৬ মে দুপুরে ‘আগুনে পুড়েছে সব, ফেরেননি স্বামী, তিন সন্তানকে আঁকড়ে অপেক্ষায় এক মা’ শিরোনামে প্রথম আলোর অনলাইনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই সূত্র ধরে ওই দিন সন্ধ্যায় ওই নারীর খোঁজে যান প্রথম আলো বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের সদস্যরা। ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের পৃষ্ঠপোষকতায় ওই নারীর পরিবারসহ মোট তিনটি পরিবারের জন্য ঘর ভাড়া করে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি দেড় শ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক রাতের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। পরদিন আরও প্রায় দুই শ পরিবারের জন্য দুপুরের খাবার রান্না করে বিতরণ এবং দেড় শতাধিক শিশুর জন্য পোশাক উপহার দেওয়া হয়।



No comments

Powered by Blogger.